Saturday, October 1, 2016

“গার্লফ্রেন্ড” কি এ নিয়ে অসাধারন একটি রচনা না পড়লে মিস হয়ে যাবে

post image

রচনা: “গার্লফ্রেন্ড” (THE GIRLFRIEND)
ভুমিকা : বর্তমানবাংলাদেশে গার্লফ্রেন্ড একটি জনপ্রিয় শব্দ। বর্তমানে দু ধরনের ছেলে বাংলাদেশে দেখা যায়। একধরনের যারা গার্লফ্রেন্ড নাই বলে হাহাকার করে, আরেকদল যারা গার্লফ্রেন্ড আছে বলে বলে হাহাকার করে। গার্লফ্রেন্ড একটি দু পা বিশিষ্ট বয়ফ্রেন্ডের রেষ্টুরেন্ট পালিত প্রাণী।

প্রত্যেক গার্লফ্রেন্ডেরএকটি করে আবশ্যিক বয়ফ্রেন্ড থাকে,একাধিকও থাকে। বয়ফ্রেন্ডদেরকে তারা “ছাগল” অথবা “গাধা” বলে ডাকতে পছন্দ করে। খুউব রোমান্টিক হলে “আমার ও” বলেও ডাকে। “গার্লফ্রেন্ড” শব্দের আভিধানিক অর্থ যদিও “মেয়ে বন্ধু” তবুও ইংরেজি থেকে আসা এই শব্দের ভাবার্থ ভিন্ন রকম। এর সরাসরি অর্থ প্রেমিকা। জানা যায় বাংলাদেশ ক্রমশই ডিজিটাল হবার কারনে প্রেমিকা শব্দটি হারিয়ে “গার্লফ্রেন্ডের” আবির্ভাব ঘটেছে।
বর্ণনা: প্রত্যেক বয়ফ্রেন্ড মাত্রই তাদের গার্লফ্রেন্ডকে ক্যাটরিনার মত স্লিম ফিগার হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু গার্লফ্রেন্ডরা সাধারণত বয়ফ্রেন্ডের সাথে চায়নিজ খেয়ে নিজেদের ওজন বাড়ানোর তালে থাকে। এতে করে যত ডেটিং তত স্বাস্থের নিয়মে পড়ে যায়। ফলে বেশীরভাগ সময় বয়ফ্রেন্ডদের আশা পূরণ হয় না। নামে গার্লফ্রেন্ড হলেও এরা দেখতে আট দশজন সাধারণ নারীর মত। তবে খুব খেয়াল করলে দেখা যায় এদের মধ্যে আলাদা কিছু ব্যাপার রয়েছে। এরা মোবাইল পছন্দ করে। মোবাইল বিহীন একটি ক্ষন তারা ভাবতে পারে না। এদের প্রধান কাজ হলো অবসরে তাদের বয়ফ্রেন্ডকে পেইন দেয়া। নিজ নিজ ক্ষমতার উপরে একজন গার্লফ্রেন্ডের কয়টা বয়ফ্রেন্ড থাকবে তা নির্ভর করে।
স্বভাব: গার্লফ্রেন্ডদের স্বভাব প্রত্যেকের আলাদা আলাদা হতে পারে।
তবে কিছু স্বভাব সব গার্লফ্রেন্ডের ক্ষেত্রেই কমন । এরা মনে করে “চাহিবা মাত্র তাহার বয়ফ্রেন্ড তাহার কাছে হাজির থাকিবে”। প্রত্যেক গার্লফ্রেন্ড স্বাধীনচেতা। তারা তাদের ছেলে বন্ধুকে বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য উৎসাহি হয়ে থাকে। এজন্য তারা মুক্তমনা বয়ফ্রেন্ড চায়। তবে এই ইস্যুতে বেশীরভাগ সময় বিরাট ক্যাচাল হয়ে অনেক গার্লফ্রেন্ড আবার অন্য ছেলের গার্লফ্রেন্ড হয়ে যায়। এছাড়া তারা সবসময় তার বয়ফ্রেন্ড কখন কোন মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলছে অথবা ফেসবুকে চ্যাট করছে তার উপর সজাগ দৃষ্টি রাখে। এছাড়া তারা চায় তার বয়ফ্রেন্ড হবে সুন্দর, ইস্মার্ট এবং রুষ্টপুষ্ট। কারন একজন গার্লফ্রেন্ড তার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে তার বান্ধবীদের সাথে আলোচনা করবে। এবং সে আলোচনায় তাকে জিততেই হবে। এসব আলোচনায় সাধারণত গার্লফ্রেন্ডরা অন্যের বয়ফ্রেন্ডের কথা শুনে নিজের মুখকে ডানদিকে মোড়নিয়ে হালকা বাঁকিয়ে উপহাস করে। উপহাস করার পর তারা প্রথমে তার বয়ফ্রেন্ডকে ফোন দেয় এবং ওর বয়ফ্রেন্ড এরকম,ওরকম, তুমি কেন এমন না টাইপের কথা বলে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেয়। এছাড়া বয়ফ্রেন্ডের সাথে সকল প্রকার ঝগড়া রাগ অভিমানের সমাধান গার্লফ্রেন্ডরা এক নিমেষেই করে ফেলে। এরকম অসাধরণ ক্ষমতা বিধাতা তাদের দিয়েছেন।
এক তথ্যে জানা যায় গার্লফ্রেন্ডের চোখের পানি চোখের ঢগায় জমা থাকে। প্রয়োজনমত কেবল কল ছেড়ে দিলেই বের হয় টপটপ করে। এছাড়া প্রত্যেক গার্লফ্রেন্ড চায় তার বয়ফ্রেন্ড পড়ালেখা, অফিস, চাকুরী সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল তার কথা ভাবুক। মাঝরাতে তার বাসার সামনে গিয়ে তাকে চমকে দিক। সে একদিকে চমক চায় আবার তার বাসার সামনে যাওয়ার অপরাধে বয়ফ্রেন্ডকে গালি দিতেও ছাড়ে না। গার্লফ্রেন্ডরা তাদের বয়ফ্রেন্ডকে জান্টুস, জান, বাবু, সোনা, কলিজা, টোনা বলে ডাকতে পছন্দ করে।
প্রিয় স্থান : বাংলাদেশের গার্লফ্রেন্ডের প্রিয় স্থান চায়নিজ রেষ্টুরেন্ট, কেএফসি, পিজ্জাহাট ইত্যাদি। আগের দিনে গার্লফ্রেন্ডরা স্বপ্ন দেখতো তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পার্কের সবুজ ঘাসে বসে একজন আরেকজনকে বাদাম খাইয়ে দিচ্ছে, এখনকার গার্লফ্রেন্ডরা স্বপ্নদেখে পিজ্জাহাটে বসে হিজহুজভাবে পিজ্জা খাচ্ছে। তবে বিল কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের। এছাড়া মাঝে মাঝে তারা পার্কেও যায় বটে, তবে সেটা নিতান্তই বেকায়দায় পড়ে।
উপকারিতা: গার্লফ্রেন্ড গরুর মত উপকারী প্রাণী। এরা অলস বয়ফ্রেন্ডের সকালে এলার্মের কাজ করে দেয়। কেবল গার্লফ্রেন্ড আছে বলেই আলাল দুলালদের জন্য পৃথিবীটা একেবারে অনর্থক হয়ে যায়নি। কোন কাজ নেই বলে আলাল দুলালদের পেটে চর্বি যা কম আছে তার এক মাত্র কারণ হলো গার্লফ্রেন্ড। এছাড়া গার্লফ্রেন্ডেরসাথে ছ্যাকা শব্দটি অবধারিতভাবে জড়িত। অনেক কবির উৎপাদনও গার্লফ্রেন্ডের কোল থেকেই হয়। এছাড়া কেবল গার্লফ্রেন্ডের জন্যই জীবনটা অনেকের গতিময়।এরা আরও অনেককিছু দেয়,তবে সেগুলো আনসেন্সর্ড ! সেগুলো উল্লেখ করলে রচনারশিল্পগুণ ক্ষুন্ন হবে বলে দেয়া গেল না।
অপকারিতা: গার্লফ্রেন্ডের উপকারিতা যেমন আছে, তেমন অপকারিতাও আছে। গার্লফ্রেন্ডেরজন্যই ছাত্রদের বছরে তিনবার বই কিনতে হয়, চারবার ফরম ফিলআপ করতে হয়। তাছাড়া অনেকের কাছে সকালে ঘুম থেকে উঠা পর্যন্ত রাতে ঘুমানো পর্যন্ত পৃথিবীটা জাহান্নাম মনে হবার একমাত্র কারন গার্লফ্রেন্ড।
কবি বলেছেন “সময় এবং নদীর স্রোতকারো জন্য ওয়েট করে না”। গার্লফ্রেন্ডেরকাছে বয়ফ্রেন্ডরা সময়কে নদীর স্রোতের মত বিলিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব সূদুরপ্রসারী। পরীক্ষা ফেইল, অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি,পাড়ায় মারামারি, দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মারামারিতেও গার্লফ্রেন্ডের বিরাট ভুমিকা লক্ষ করা যায়। মাঝে মাঝে গার্লফ্রেন্ড ব্যাপক জানমালের ক্ষতি করে।
তাই বর্তমান বাংলাদেশে একটি সমস্যার নামও “গার্লফ্রেন্ড” সমস্যা।
উপসংহার : অনেক অপকারিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গার্লফ্রেন্ড উপকারি জন্তু! প্রমাণ স্বরুপ তরুন প্রজন্মের গার্লফ্রেন্ডের জন্য হাহাকার এবং কান্নাকে দেখানো যায়। গার্লফ্রেন্ডের প্রয়োজনীয়তা বুঝা যায় এক তরুন মনীষির বাণীতে।
মনীষি বলেছেন “গার্লফ্রেন্ড বিহীন তরুনের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা, ঘাসবিহীন মাঠে গরুর পায়চারির মত”। গার্লফ্রেন্ডকে কন্ট্রোল করা পাল্লায় তুলে দেয়া দশটি ব্যাঙ কন্ট্রোল করার সমান কঠিন।
visit more : IT Tips Rangpur
বি:দ্র: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করবেন ও মন্তব্য করতে ভুলবেন না কেমন।

সৈকতের ওয়ানডে অভিষেক

চলতি বছর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। সে ম্যাচে খুব একটা সাফল্য পাননি তিনি। ১৯ বল খেলে মাত্র ১৫ রান করেছিলেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। এরপর জাতীয় দলে আর খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।
পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলে আবার নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়েন সৈকত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ একটি ইনিংস খেলে সুযোগ করে নেন চলমান সিরিজের ওয়ানডে দলে। তবে প্রথম ম্যাচের একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর।
বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশে ঠিকই জায়গা করে নেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসের জায়গায় দলে সুযোগ দেওয়া হয় তাঁকে।
ইমরুল প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানের একটি ইনিংস খেললেও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংয়ের আস্থায় থাকতে পারেননি। শোনা যায় শেষ মুহূর্তে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় আগের ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং করেছিলেন বলে। প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে পেসার তাসকিন আহমেদের বলে একটি ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।
অবশ্য শুধু ইমরুলের ব্যর্থতায় যে সৈকত দলে সুযোগ পেয়েছেন তা কিন্তু নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন বলে আগেই টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা কুঁড়িয়েছেন সৈকত। তাই তাঁর অভিষেক শুধু সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র।
সৈকত আবাহনীর হয়ে এই মৌসুমে ৭৭.৭৫ গড়ে ৬২২ রান করেছিলেন। তা ছাড়া বল হাতে নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। এবার জাতীয় দলের হয়ে কেমন করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

চোখ রাঙাচ্ছিল পরাজয়। ঘিরে ধরেছিল শঙ্কার কালো মেঘ। ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাও যেন গিয়েছিল মিইয়ে। হঠাৎ যেন ফিরল সম্বিত, দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল দল। আফগান চ্যালেঞ্জকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জিতল বাংলাদেশ।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এক সময় ম্যাচ ছিল প্রায় আফগানদের হাতের মুঠোয়। সাকিব আল হাসানের দারুণ একটি ওভার আর শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিতে যায় বাংলাদেশ।
তাসকিনের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফেরা এই ফাস্ট বোলার দেন মাত্র ৫ রান। নিজের শেষ ২ ওভারে তাসকিন নেন ৪ উইকেট!
টানা তিনটি ফুল লেংথ বল, চতুর্থটি অফ স্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার। সেটাই তাসকিন আহমেদকে এনে দেয় মোহাম্মদ নবির উইকেট। সীমানার কাছে ছুটে গিয়ে নবির ক্যাচ তালুবন্দি করেন সাব্বির রহমান। তাসকিনের সেই ওভারের শেষ বলে আসগর স্তানিকজাইয়ের ক্যাচ তালুবন্দি করেন মাহমুদউল্লাহ।
নিজের শেষ ওভারে আঘাত হেনে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখেন  মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়কের বলে নাজিবুল্লাহ জাদরানের ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করেন মুশফিকুর রহিম।
নিজের শেষ ওভারে হাশমতুল্লাহ শাহিদিকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তার বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১১০ বলে ৭২ রান করেন হাশমতুল্লাহ।
সাকিব আল হাসানের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন রহমত শাহ (৯৩ বলে ৭১ রান)। এগিয়ে এসে বল পাননি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি মুশফিকুর রহিম। ভাঙে ১৪৪ রানের জুটি।
রহমত শাহর পর অর্ধশতক করেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। ওয়ানডেতে এটাই তার প্রথম অর্ধশতক।
দ্রুত দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো আফগানিস্তান প্রতিরোধ গড়ে রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শাহিদির ব্যাটে। তৃতীয় উইকেটে এই দুই জনে গড়েন শতরানের জুটি। রুবেল হোসেনকে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক করেন রহমত।
বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন আফগানিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাবির নুরি (২৪ বলে ৯)।
আগের বলেই এগিয়ে এসে এক ছক্কা হাঁকানো মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়কের বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। শূন্য রানে জীবন পাওয়া শাহজাদ ২১ বলে করেন ৩১ রান।
মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে কঠিন একটু সুযোগ হাতছাড়া করেন রুবেল হোসেন। শাবির নুরির ক্যাচ অনেকটা দৌড়েও তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। মিডঅন থেকে লংঅনের কাছে পেছন দিক থেকে আসা বল তার হাত ফস্কে যায়।
দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ শাহজাদকে জীবন দিলেন ইমরুল কায়েস। তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি।
তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহর অর্ধশতকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। মঞ্চ প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে শেষের দিকে সাকিব আল হাসান ছাড়া আর কেউ জ্বলে উঠতে না পারায় সংগ্রহটা আরও বড় হয়নি স্বাগতিকদের। জয়ের জন্য ২৬৬ রানের লক্ষ্য পেয়েছে আফগানরা।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে ২৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

SMS এর মাধ্যমে জেনে নিন আপনার স্মার্ট কার্ডটি কখন কোথায় পাবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রোববার (২ অক্টোবর) উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) বিতরণের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। আর সোমবার থেকে নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেয়া শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কার স্মার্টকার্ড কখন ও কোথা থেকে বিতরণ করা হবে যেকোনো মোবাইল থেকে ১০৫ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে নাগরিকেরা সহজেই জানতে পারবেন।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন জানান, www.nidw.gov.bdওয়েবসাইটে গিয়ে NID Online Services লিংকের অন্যান্য তথ্য ট্যাবে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ লিংকে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ অথবা ফরম নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণের তারিখ জানা যাবে।
এসএমএসের মাধ্যমেও বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম জানা যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে জানতে SC লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। আর যাদের এনআইডি ১৩ ডিজিটের তাদের এনআইডির নম্বরের প্রথমে জন্ম সাল যোগ করতে হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু এখনো এনআইডি পাননি তারা SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে D লিখে স্পেস দিয়ে yyy-mm-dd ফরমেটে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

লেখাটি অনেক গুরুত্বপূর্ন তাই শেয়ার করে অন্যখে জানার সুযোগ করে দিন।।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য: ড. হারুন-অর-রশিদ

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, তিন বার নির্বাচিত ডিন, শিক্ষক সমিতি, এশিয়াটিক সোসাইটিসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেন। ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ১১ দিন অজ্ঞাত স্থানে রিমান্ড শেষে পাঁচ মাস কারাভোগও করেন।

৩৬ বছর ধরে শিক্ষকতায় থাকা ড. হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লন্ডন থেকে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল করেন। স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, ওয়ান ইলেভেনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি আটটি বই লিখেছেন। এছাড়াও সম্পাদিত গবেষণা কর্ম ৫টি, ভাষা-আন্দোলন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদিত গ্রন্থ ৫টি, দেশ ও বিদেশের পত্রিকায় অর্ধশতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার এক ‘বৈপ্লববিক’ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। কমছে সেশনজট সমস্যা। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে প্রিয়.কম-এর সাথে একান্ত কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ।

মুক্ত হওয়ার পথে সেশনজট
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২১ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২ হাজার ২শ’ কলেজ অধিভূক্ত রয়েছে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভের পর দেখলাম, এটা একটা মহা সমুদ্রের মতো। এর কোনো কূল-কিনারা নেই। দেখলাম, এত বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করে এটা চালানো হচ্ছে।

গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে উত্তরপত্র এবং অন্যান্য একাডেমিক সামগ্রী আদান-প্রদান হচ্ছে। ফলে দুর্বিষহ সেশনজটে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। আমি প্রথমেই সেশনজটকে এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করলাম।

এই সমস্যা দূর করতে কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রীভূত প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছয়টা রিজওন্যাল (আঞ্চলিক) সেন্টার (সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা) আছে; এগুলো বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাগীয় শহরে। সেই রিজওন্যাল সেন্টারগুলো আমরা চালু করলাম। সেখানে জনশক্তি দিলাম। কতগুলো লজিস্টিক দিলাম, যেমন কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ যেগুলো আছে। প্রত্যেকটা রিজওন্যাল সেন্টারে একজন পরিচালক রয়েছে, যারা প্রত্যেকে একজন প্রফেসরের পদমর্যদার। এভাবে এটাকে সাজালাম।

এখন আমাদের অনেক কাজ কিন্তু রিজওন্যাল সেন্টারের মাধ্যমে হয়। কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষককে আর গাজীপুর আসতে হয় না। তারা স্ব-স্ব রিজওন্যাল সেন্টারে যোগাযোগ করে সেখান থেকেই একাডেমিক ম্যাটেরিয়াল অর্থাৎ পরীক্ষা সংক্রান্ত সবকিছু পেয়ে যায়। ওখান থেকে তারা সব কিছু গ্রহণ করে। এগুলো এক বা দুদিনের ম্যধ্যে ডিসট্রিবিউট হয়ে যায়।
র পর আরেকটা পদক্ষেপ হলো- নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা এবং তাদের সেশনজট। এই নতুন শিক্ষার্থীরা যেন সেশনজটে না পড়ে সেটা নিশ্চিতে আরও একটি একটি পদক্ষেপ হাতে নিলাম। আমাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী তিন মাসের মধ্যেই রেজাল্ট (ফলাফল) দিতে হবে। পরীক্ষা হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই রেজাল্টের ব্যবস্থা করলাম।

সাফল্যের অন্তরালে ক্রাশ প্রেগাম

আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি ২০১৩ সালে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের জন্য কোনো সেশনজট থাকবে না। কিন্তু আমার যোগদানের আগে যারা এখানকার শিক্ষার্থী, যারা সেকেন্ড ইয়ারে, থার্ড, ইয়ারে কিংবা ফোর্থ ইয়ারে পড়ে তাদের তো অনেক সেশনজট রয়েছে। এটাকে কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যাকে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম বলছি। সেশনজট দূরীকরণে ক্রাশ প্রোগ্রাম একটা একাডেমিক প্রোগ্রাম। এর মাধ্যেমে সেশনজটকে ক্রাশ করতে হবে। এভাবে আমাকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।

এই ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের জন্য আমাকে গবেষণা করতে হয়েছে। মিনিমাম আট থেকে নয় মাস গবেষণা করেছি। কতগুলো পরীক্ষা এখানে এসে জট বাঁধছে, রেলওয়ে জংশনের মতো। এগুলোর যেমন আলাদা লাইন আছে তেমনই পরীক্ষাগুলো আলাদা আলাদা। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এই ক্রাশ প্রোগ্রামের কারণে পরীক্ষা রেগুলার হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা-শিক্ষকরা জানেন কোনটা কীভাবে হবে। আমরা ২০১৫ সালে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছি। গত বছর চলে গেছে। চলতি বছর যাচ্ছে। আমরা ঘোষণা করেছি, ২০১৮ সালের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করব। নতুন যারা ভর্তি হবে তাদের কোনো সেশনজট থাকবে না। সেভাবে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামকে সামনে রেখে সামনে অগ্রসর হচ্ছি।